শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন

সিলেট



নিজস্ব প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২০২৩-০৯-১১ ০৮:১৯:০২


দিনভর উত্তেজনার পর বিশ্বনাথের সেই মাদ্রাসার দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব নিরসন

মাদ্রাসার ছবি

দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে সিলেটের বিশ্বনাথের তেলিকোনা এলাহাবাদ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুতাহির মো. হোসাইন ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মুখলিছুর রহমান পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসন করা হয়েছে।

গত সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) অধ্যক্ষের মাদ্রাসায় প্রবেশ করা নিয়ে সকাল থেকে দু’পক্ষে উত্তেজনা দেখা দিলে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এসময় উপস্থিত এলাকাবাসীর সমন্বয়ে ৫সদস্যের একটি সালিশ কমিটি গঠন করা হয়। এরপর দিনভর উত্তেজনার পর সালিশ কমিটির নেতৃবৃন্দ দু’পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠক করে সমস্যা সমাধনের শতভাগ চেষ্ঠা করেন।

আর মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের পরবর্তি সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত অধ্যক্ষকে স্বপদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

এছাড়া সকল প্রকার দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য আগামি ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার বৈঠকের পরবর্তি তারিখ নির্ধারণ করেন।

জানাগেছে, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বিশ্বনাথের তেলিকোনা এলাহাবাদ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার দুই শিক্ষকের মধ্যে দ্বন্ধ চলে আসছে। বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্তও গড়িয়েছে। সম্প্রতি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুতাহির মো. হোসাইনকে সাময়িক বহিস্কার ও বাধ্যতামূলক ৪মাসের ছুটিতে পাঠান মাদ্রাসার এডহক কমিটির নেতৃবৃন্দ।

এনিয়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুখলিছুর রহমানের চাচাতো ভাই এডহক কমিটির সাবেক সভাপতি তেলিকোনা গ্রামের বাসিন্দা নিজামুল ইসলাম ও একই গ্রামের বাসিন্দা অধ্যক্ষ আবুতাহির মো. হোসাইন পক্ষের মধ্যে দ্বন্ধ আরও বেড়ে যায়।

এরপর বাধ্যতামূলক ছুঠি কাটিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর রোববার অধ্যক্ষ মাদ্রাসার অফিস কক্ষে যেতে চাইলে এডহক কমিটির সাবেক সভাপতি নিজামুল ইসলাম পক্ষ বহিস্কৃত হিসেবে অধ্যক্ষকে বাধা দেন।

এসময় দু’পক্ষে বাতবিতন্ডা শুরু হলে থানা পুলশের এসআই দিপঙ্কর ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্তণে আনেন। তারপর দু’পক্ষে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। এরপর শক্তি সঞ্চয় করেন দু’পক্ষ। আর অধ্যক্ষ গ্রামবাসীকে জানিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর রোববার আবারও মাদ্রাসায় যাওয়ার প্রস্তূতি নেন। 

ওইদিন (১০ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসায় গেলে দু’পক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষ এড়াতে থানা পুলিশের এসআই রুমেন আহমদ, এসআই জয়ন্ত সরকার, এসআই দ্বিপঙ্করসহ একদল পুলিশ সকাল থেকে মাদ্রাসায় গিয়ে হাজির হন।

একপর্যায়ে পুলিশ ও এলাকাবসাী সমন্বয়ে খাজাঞ্চী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তালুকদার মো. গিয়াস উদ্দিন, সমাজসেবক তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, এটিএম নুর উদ্দিন আওয়ামী লীগ নেতা শংকর চন্দ্র ধর ও উপজেলা যুবলীগ নেতা মুহিবুর রহমান সুইটকে দিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি সালিশ কমিটি গঠন করেন।

এরপর দিনভর উত্তেজনা ও বৈঠক শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এতে শিক্ষাবোর্ডের পরবর্তি সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত অধ্যক্ষকে স্বপদে বহাল রাখেন এবং সকল প্রকার দ্বন্ধ স্থায়ীভাবে নিরসনের জন্য পরবর্তি তারিখ নির্ধারণ করেন।

সালিশ বৈঠকের সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী বলেন, উভয় পক্ষের সম্মতিতে দ্বন্দ্ব নিরসন করা হয়েছে এবং শিক্ষাবোর্ডের পরবর্তি নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অধ্যক্ষকে স্বপদে বহাল রাখা হয়েছে।

এছাড়া উভয়পক্ষের মধ্যে আরও যা যা সমস্যা রয়েছে ক্রমান্বয়ে সেই সমস্যাও সমাধান করা হবে। বিশ্বনাথ থানার এসআই রুমেন আহমদ বলেন, মধ্যস্থতাকারী সালিশ কমিটির নেতৃবৃন্দরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করায় তেলিকোনা মাদ্রাসায় শান্তি ফিরে এসেছে। আগামি বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সালিশ কমিটির ওই পাঁচ সদস্য উভয় পক্ষকে নিয়ে আবারও বৈঠকে বসার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।


ডেসিস/জেকে/ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ইং

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Sidebar Google Ad Code