বিশ্বনাথে ১৫দিন ধরে দুবাই প্রবাসীর গৃহ নির্মাণকাজ বন্ধ, হয়রানির অভিযোগ
সিলেটের বিশ্বনাথে আব্দুন নূর (৫০) নামের এক দুবাই প্রবাসীর বসঘরের নির্মাণ কাজ আটকে দিয়ে তাকেও নানাভাবে হয়রানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পূর্ব শত্রুতা ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় আপন বড়ভাই আব্দুল আহাদ (৭০) ও তার চাচা আব্দুল মজিদ (৮০) মিলে আদালতে মামলা দিয়ে তাকে হয়রানী করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ন্যায় বিচার পেতে গ্রামের পঞ্চায়েতকে অবগত করার পাশপাশি সম্প্রতি সিলেটের প্রবাসী কল্যাণ শাখা ও সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই প্রবাসী। ফলে ন্যায় বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।
ভূক্তভোগী প্রবাসী আব্দুন নূর উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের বন্ধুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাশিম ওরফে হাসিমের ছোট ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে বসবাসকারী আব্দুন নূর চলতি ২০২৩ সনের ১৩জুলাই বাংলাদেশে আসেন। এরপর বন্ধুয়ায় তার গ্রামের বাড়ির পৈত্রিক সম্পত্তি নোয়াগাঁও মৌজার ১২৮০ নং খতিয়ানের ৪২৯০ দাগের তার অংশের ১০ শতাংশ জায়গার আড়াই শতাংশের মধ্যে বসতঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর বড়ভাই আব্দুল আহাদের পরামর্শে নির্মাণকাজে বাঁধা দিয়ে ৫লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তার চাচা আব্দুল মজিদ।
পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর প্রবাসী আব্দুন নূর চাঁদা দাবিকারী চাচা ও ভাইদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিলেটের প্রবাসী কল্যাণ শাখা ও জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু ওইসকল অভিযোগের এখনও কোন তদন্ত হয়নি। তারপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর চাচা আব্দুল মজিদ বাদী হয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে প্রবাসী ভাতিজার বিরুদ্ধে ফৌজধারী আইনে মামলা করেন (বিবিধ মামলা নং ৮২/২০২৩)।
এর প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে সেখানে ১৪৪ধারা জারি করা হয়। আর এতে করে মাঝপথে নির্মাণকাজ আটকে যায়। এরপর থানা পুলিশের এসআই জাকির হোসেন সরেজমিন ঘটনাস্থল পরির্দশন করে প্রবাসী নূরের নির্মাধানীন জায়গায় বাদী আব্দুল মজিদ পক্ষের কোন অংশীদারিত্ব নেই মর্মে গত ২৩ সেপ্টেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। আগামি ৫ অক্টোবর ওই মামলার শুনানী হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রবাসী আব্দুন নূর অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, তার চাচা ও বড়ভাইকে ৫লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে এবং আদালতকে ভুল বুঝিয়ে তার নির্মানাধীন জায়গায় ১৪৪ধারা জারি করানো হয়েছে। এতে গত ১৫দিন ধরে নির্মাণ কাজবন্ধ থাকায় প্রায় দেড়লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তবে, প্রবাসীর চাচা আব্দুল মজিদের কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলেও তার বড়ভাই আব্দুল আহাদ বলেছেন এসকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
এপ্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য হবিবুল ইসলাম, বন্ধুয়া গ্রামের মুরব্বী উস্তার আলী, আব্দুল জব্বার, আকদ্দুছ আলী বলেন, প্রবাসী আব্দুন নূর তার অংশের ১০শতাংশ জায়গার মাত্র আড়াই শতাংশে গৃহনির্মাণ করছেন।
কিন্তু তার চাচা আব্দুল মজিদ ও বড়ভাই আব্দুল আহাদ জায়গা ভাগভাটোয়ারা করে দিয়ে তারাই আবার অন্যায়ভাবে মামলা করছেন, টাকা চাচ্ছেন এবং তাকে হয়রানী করছেন।
বিশ্বনাথ থানার এসআই জাকির হোসেন বলেন, প্রবাসী আব্দুন নূরের নির্মানাধীন জায়গায় মামলার বাদী আব্দুল মজিদ পক্ষের কোন অংশ নেই।
বিষয়টি তদন্ত করে গত ২৩ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ডেসিস/জেকে/ ০১ অক্টোবর ২০২৩ইং

IT Factory Bangladesh